নরসিংদীর পলাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম (৩৫) মারা গেছেন। দীর্ঘ ৯ দিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজির ছেলে। তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
এর আগে ১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের ফকির বাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও গুলিতে আহত হন মাসুম। এ ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফকির বাড়ি এলাকার বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকায় একটি মুদিদোকানে মাসুম, মামুন, জয়নালসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানি দলবল নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় মাসুমের পেটে গুলি লাগে। প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মাসুমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নিহত মাসুমের বোনজামাই বাদী হয়ে পলাশ থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান ওসি।