নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে প্রথম হয়েছে উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এডুকেশনাল এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট স্কিম এর আয়োজন করে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ‘পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন স্কিম’-এর আওতায় উপজেলা বা থানা পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। স্কুল পর্যায়ের ১০টি ও কলেজ পর্যায়ের ৭টিসহ মোট ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অধিকার করে গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা স্টার্টআপে ‘একটি অ্যাপ উদ্ভাবনের মাধ্যমে অব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করে সেই কাপড় দিয়ে শৌখিন পণ্য তৈরি ও তা বাজারজাতকরণ’; বিজ্ঞান প্রকল্পে ‘আবর্জনা নয়, সম্পদ: বায়োগ্যাস তৈরির সহজ উপায়’ এবং উদ্ভাবনী ধারণায় ‘কলাগাছের কাণ্ড থেকে সহজেই পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক তৈরি’ প্রকল্প প্রদর্শন করে।
প্রদর্শনীতে মডেল রায়পুরা প্রকল্প প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ। আর বাণিজ্যিকভাবে কংক্রিট উৎপাদন এবং ইট না ভেঙে সরাসরি কংক্রিট তৈরির মেশিন প্রকল্প প্রদর্শন করে তৃতীয় স্থান অধিকার করে সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ।
‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। এতে সভাপতিত্ব করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান আয়োজকেরা। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পগুলো পরে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের বিকল্প নেই। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজেক্ট উপস্থাপন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে তাদের মেধা ও মননের বহিঃপ্রকাশ, যা গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে উঠতে তাদের সাহায্য করবে।’