নওগাঁর সাপাহারে দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার এখনো জমজমাট। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমের দাম প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে, যা শেষ মুহূর্তে এসে আমচাষিদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।
আজ শুক্রবার সাপাহারের স্থানীয় আমের হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই চাষিরা ক্যারেটভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেন। তবে সরবরাহ কম থাকায় আম কেনাবেচায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের দর-কষাকষি তীব্র রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে বাজারে মূলত ব্যানানা ম্যাঙ্গো, আশ্বিনে, গৌড়মতি, কাটিমন এবং বারি-৪ জাতের আম কেনাবেচা হচ্ছে। তবে সরবরাহ অত্যন্ত কম হলেও বাজারে সবচেয়ে বেশি আম্রপালির। হাটে উন্নতমানের প্রতি মণ আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
এ ছাড়া মানভেদে ব্যানানা ম্যাঙ্গো প্রতি মণ ১০ থেকে ১৫ হাজার, বারি-৪ আম চার থেকে ৮ হাজার এবং গৌড়মতি ও কাটিমন বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়।
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি বছরের তীব্র গরমের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ আম পেকে যাওয়ায় ভরা মৌসুমে আমের দাম তুলনামূলক কম ছিল।
সাপাহারের এক আমচাষি রুবেল হক বলেন, ‘শুরুর দিকে আম্রপালি বিক্রি করে ভালো দাম পাইনি। কিন্তু বাগানের শেষভাগে থাকা বারি-৪ জাতের আম এখন ভালো দামে বিক্রি করতে পারছি।’
একই এলাকার চাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, উৎপাদন খরচের তুলনায় শুরুতে অনেক চাষি লোকসান গুনেছেন, তবে শেষভাগে বেশি দাম পাওয়ায় সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।
সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, সারা দেশে আমের সরবরাহ শেষ হয়ে আসায় এখন মূলত নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ওপরই বাজার নির্ভর করছে। দিন যত যাবে, সরবরাহ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন। স্থানীয় আম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ বছর জেলাটিতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম বিশেষ সুস্বাদু হয়। মৌসুমের শেষভাগে এসে চাষিরা বাড়তি দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন। শেষ সময়ে যেসব জাতের আম বাজারে আসে, সেগুলো চাষে যেন কৃষকেরা আরও আগ্রহী হন, সে জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’