নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার নাজিরপুর ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দুই পাশের ভেঙে পড়া সংযোগ সড়ক যেন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর মুখে সড়কের মাটি সরে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছে শত শত যানবাহন ও পথচারী। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বাড়ছে আতঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থা চললেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়কের স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করে সেতুটি যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাজিরপুর ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ভান্ডারপুর, কোলা, দ্বীপগঞ্জ, নাজিরপুর ও বালুভরা ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। এই পথ দিয়েই তাঁরা নওগাঁ জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতুর দুই পাশ ভেঙে পড়ায় এখন স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব পাশে দুই দিকেই মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম পাশে এক পাশ সম্পূর্ণ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙতে ভাঙতে সেতু-সংলগ্ন পাকা সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। সেখানে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেই। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বালুভরা বাজারের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই সেতু আমাদের এলাকার প্রাণ। কিন্তু যেভাবে দুই পাশ ভেঙে আছে, তাতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায়ই মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তারপরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ নিয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করে ঝুঁকি কমানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’