ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধা ও হামলা চালিয়ে নেতা-কর্মীদের জখমের অভিযোগ করেছেন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ। এ ঘটনার জন্য তিনি বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
আজ বুধবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জানান, হামলার উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরে নেতা-কর্মীরা জড়িয়ে ধরে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবাদে তারাকান্দায় প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে নেতা-কর্মীরা চলে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা করেন পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকেরা। এতে ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতাবস্থায় মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ নামের একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুহাম্মদুল্লাহ আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে সব সময়ই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিরূপ আচরণ করে যাচ্ছেন। তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দেবেন না বলে হুমকি দিয়ে বেড়ান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতে আমরা একসঙ্গে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা একটা শান্তিপূর্ণ ও সহমর্মিতার দেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু এই হিংসার কারণে পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা তাঁর (মোতাহার হোসেন তালুকদার) হিংসা থেকে আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের এবং এলাকাবাসীকে বাঁচানোর আহ্বান জানাই।’
এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সারোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ ফারুকী, ফুলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপর দিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি জানান, সেদিন (পয়লা বৈশাখ) কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং সেখানে বিএনপির কোনো কর্মী-সমর্থক ছিলেন না।
খেলাফত মজলিসের একজন কর্মী রক্তাক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন উদ্দেশ্যে মুরগির রক্ত জামায় মাখিয়ে একটি নাটক করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রক্তাক্ত হওয়ার কোনো ঘটনা সেদিন ঘটেনি।
বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন প্রসঙ্গে মোতাহার বলেন, ‘এগুলো সরকারের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি উপস্থিত থেকে কাজ শুরু করেন। তাঁকে হুমকি প্রদানের বিষয়টি অহেতুক বা অবান্তর। বরং সংসদ সদস্য রহস্যজনক কারণে নিজেই হিংসামূলক আচরণ করে যাচ্ছেন। অন্যান্য এলাকায় বিজয়ী প্রার্থী পরাজিত প্রার্থীর বাসায় গিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও তিনি এখন পর্যন্ত দূরত্ব তৈরি করে রেখেছেন।
‘তাই আমি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট ছিলাম, তখনই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে এবং প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমাকে কেন বিজয়ী সংসদ সদস্যের টার্গেট করা হচ্ছে, এটা আমার বোধগম্য নয়। তাহলে আমি কি রাজনীতি ছেড়ে দেব? আমি কি এলাকা ছেড়ে দেব?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আব্দুল বাতেন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ইসমাইল, উত্তর জেলা তাঁতী দলের সদস্য আজিজুল হক, রওনক আহমেদ আজিজুলসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।