মাত্র ২০ টাকার একটি লটারির টিকিট। সেই টিকিটই নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কৃষক হানিফ মিয়াকে (৩১)। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) জাতীয় লটারি-২০২৬-এর প্রথম পুরস্কার ৩০ লাখ টাকার ঘোষিত নম্বরের সঙ্গে তাঁর টিকিটের নম্বর মিলে গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হচ্ছে না।
হানিফ মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুর কুদ্দুসের ছেলে। একটি ফার্মেসিতে কাজ করার পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) আয়োজিত সরকার অনুমোদিত ‘বিপিকেএস জাতীয় লটারি-২০২৬’-এর ড্র অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ জুলাই। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩০ লাখ টাকা জিতেছে ‘গ-০১...৬৪’ নম্বরের টিকিট।
হানিফ মিয়া জানান, মহেশপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে কাজ করার সময় লটারির টিকিট বিক্রির খবর শুনে তিনি ২০ টাকা করে দুটি টিকিট কেনেন। পরে অনলাইনে ফলাফল দেখার সময় একটি টিকিটের নম্বরের সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের নম্বর মিলে যায়। এরপর মূল টিকিট নিয়ে বিপিকেএসের কার্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ টিকিটটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে।
হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, ‘৪০ টাকা খরচ করে দুইটা টিকিট কিনে আনার পর বকাবকি করেছিলাম। এই টাকায় সংসারের জন্য সবজি আনলেও ভালো হতো। কিন্তু একদিন আসরের নামাজ পড়ে এসে স্বামী বলল, অনলাইনে লটারির ড্র মিলিয়ে দেখতে। অনলাইনে যাচাই করতেই আমাদের একটি টিকিটের নম্বর প্রথম পুরস্কার, অর্থাৎ ৩০ লাখ টাকার সঙ্গে মিলে যায়। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কয়েকবার দেখার পর মনে হয়েছে, সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো। এই টাকা পেলে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে।’
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজি মো. আলম কবির বলেন, ‘প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে এসেছেন। টিকিটটি প্রাথমিকভাবে সঠিক মনে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।’