ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোরদের দ্বন্দ্ব গড়াল দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে। এতে আহত শিপন মিয়া (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মরিচারচর এলাকায় ফুচকা খেতে গিয়ে দুই গ্রুপের কিশোরদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তা হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়।
পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মরিচারচর ও চরআলগী—দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। শতাধিক খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এ সময় আহত হন শিপন মিয়া। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ মারা যান তিনি।
হামলায় ভেস্তে যায় দরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানও। হামলায় রান্না করা খাবার, বাসনপত্র ও অতিথি আপ্যায়নের সব ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। পরে কনেকে পাশের বাড়িতে নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হলেও কোনো আপ্যায়ন ছাড়াই বরযাত্রী কনে নিয়ে ফিরে যায়।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কোনো দোষ ছিল না, অথচ আমাদের সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত শিপন মিয়া হাসপাতালে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।