মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহারের পর শরীয়তপুরে বদলির আদেশ বাতিল করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে তাঁর বদলি বাতিল করে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বরখাস্তের কারণ হিসেবে অসাচরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
বরখাস্তের আদেশপত্র সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এ বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আগে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ডিজি ও মন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বদলির আদেশ বাতিল করে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতনমহল ও সাংবাদিকদের দাবি, স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের বিষয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত হওয়া জরুরি।
জানা গেছে, গত ১১ মার্চ একটি দৈনিকের মাল্টিমিডিয়ায় মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। এর প্রতিবাদে জেলাজুড়ে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেন।
গত বুধবার মো. মিজানুর রহমান মুন্সিগঞ্জের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করেন। শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি হঠাৎ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তাঁর ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের বিষয়ে জানতে পেরে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।