হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

পর্যটকের পদচারণে মুখর মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ঈদের ছুটিতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানে পর্যটকেরা ভিড় করেছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশে পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় জেলা মৌলভীবাজার পর্যটকের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে এসেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও জেলার দর্শনীয় জায়গাগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে গতবারের তুলনায় এ বছর বাইরের পর্যটক কম এসেছেন।

মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এসব দর্শনীয় স্থান দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আসেন। এর পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টের বেশির ভাগই শ্রীমঙ্গলে। এসব স্থান ঘুরে দেখতে পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই।

আজ রোববার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ পর্যটক শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। শ্রীমঙ্গল শহরে যানজট লেগে থাকায় পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাস পর আবার পর্যটকের আগমন ঘটেছে জেলায়। জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসা ভালো না হলে এসব পরিবারের সদস্যদের কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়। এবার কমবেশি পর্যটক এসেছেন। পর্যটকেরা ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই বছর ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং হয়েছে। বড় রিসোর্টগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লি, হাকালুকি হাওর, মনু ব্যারাজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তিমালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রানির দিঘি, পৃথিমপাশা নবাববাড়ি, পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, খাসিয়াপুঞ্জি, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হজরত শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর মাজার, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ২০ রমজান পর্যন্ত আগাম বুকিং একেবারে কম ছিল। রমজানের শেষ দিকে হোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বড় রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং হয়নি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আগত পর্যটকেরা নিরাপদে চলাফেরার জন্য বেশির ভাগ পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যটকেরা জানান, তাঁরা প্রতিবছর ঈদের সময় একটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ান। বিশেষ করে চা-বাগান ও বিভিন্ন রিসোর্টে ঢুকে ছবি তুলতে সবার আগ্রহ। অনেক রিসোর্ট আছে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে প্রবেশ করে ঘুরে দেখা যায়। তবে জেলার সরকারিভাবে কোনো পর্যটনকেন্দ্র নেই। যা আছে বেশির ভাগ ব্যক্তিমালিকানা। সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করলে জেলায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আশা সায়েম চৌধুরী বলেন, ‘দুই বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছি। এখানের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি অসাধারণ। তবে এখানে একটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা খুবই নাজুক।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের দিন থেকে জেলায় পর্যটকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

ঈদের দিনে লাউয়াছড়ায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

মৌলভীবাজারের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মাঠে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাদ্যসংকটে প্রাণী, পর্যটকের অপেক্ষায় বানর

মৌলভীবাজারে সাধ্যের বাইরে গরুর মাংসের দাম

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ

চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে নিহত ১, আহত ২

মৌলভীবাজারে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে অভিযান

দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা-বাগান ও বোরোখেতে

মৌলভীবাজারে বড় ভাইয়ের হাতে যুবক খুন

কমলগঞ্জে নারী অপহরণচেষ্টার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার