মৌলভীবাজারে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে ৯২টি চা-বাগানে। সতেজতা ফিরেছে বোরো ধানের খেতেও। বিশেষ করে চা-বাগানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল এই সময়ের বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চা-গাছে নতুন কুঁড়ি গজাবে বলে জানিয়েছেন চা উৎপাদনের সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চা-গাছের পাশাপাশি বৃষ্টিতে জেলার বোরো ধানখেতে পানির অভাব কিছুটা দূর হয়েছে। বৃষ্টির পানি খেতে আটকে রাখার জন্য কৃষকেরা জমির চারপাশের নালা বন্ধ করে রেখেছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) ও আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন আরও বৃষ্টি হতে পারে।
চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক চা-গাছ মরে গেছে। এই সময়ে বৃষ্টি না হলে আরও অনেক চা-গাছ মারা যেত। বৃষ্টি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে নতুন পাতা গজাতে শুরু করবে।
এদিকে বোরোচাষিরা জানান, জেলায় বোরো চাষে পানির তীব্র সংকট ছিল। পানিসংকট থাকায় ধানগাছে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানির সংকট দূর হবে। একই সঙ্গে ধানের রোগবালাই দূর হবে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, শুক্র ও শনিবারে ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ের তুলনায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুই দিন আবহাওয়া একই থাকতে পারে একই সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে।
শমশেরনগর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির অভাবে বছরে তিন-চার মাস চা উৎপাদন করা যায় না। গত দুই দিন মৌলভীবাজারে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, এতে চা-গাছের অনেক উপকার হবে। গাছ থেকে নতুন কুঁড়ি বের হবে এখন। আশা করি, আগাম বৃষ্টিতে চা উৎপাদন ভালো হবে।’
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘এই সময়ে বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন ছিল। গত দুই দিন যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে, এতে বোরো ধানের অনেক উপকার হয়েছে। পানির সংকট কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। এ ছাড়া যেসব মৌসুমি ফলের মুকুল বের হয়েছে, এগুলোসহ বিভিন্ন সবজির জন্য অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হবে এ জেলায়।’