ঈদুল আজহার আর মাত্র দুদিন বাকি। জমে উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী পশুর হাট। শেষ সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দর-কষাকষি আর বেচাকেনা।
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। আজ সোমবার দুপুরে হাটে কোরবানির অনেক পশু উঠেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় গরুগুলো ইতিমধ্যে ঢাকায় চলে গেছে। ফলে হাটে এখন মাঝারি আকারের গরুই বেশি।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কোরবানিযোগ্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পশু রয়েছে। এর বিপরীতে স্থানীয় চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার। অন্য পশু ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
হাটে গরু বিক্রেতা খাদেমুল ইসলাম জানান, তিনি দেড় লাখ টাকা দাম চাইলেও ক্রেতারা ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি দিতে চাইছেন না। বিক্রি না হলে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরেক ব্যবসায়ী জেনারুল ইসলাম জানান, আগের হাট ভালো গেলেও এ হাটে ক্রেতার চাপ কিছুটা কম। তবে আগামী হাটে পরিস্থিতি ভালো হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
ছাগল ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী জানান, বড় ছাগলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে।
বামন্দী পশুর হাট ইজারাদার মো. রাশিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী হাটে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ঈদকে ঘিরে হাট ও আশপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, গাংনীতে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে এবং হাটে অসুস্থ পশুর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।