রাস্তার পাশে চায়ের দোকান। সেখানে বসে আছেন যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী পুরুষ। ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে ভোটের আলাপ নিয়ে মশগুল হয়েছেন তাঁরা। নির্বাচনে কোন প্রার্থী জিততে পারেন, কোন প্রার্থী কেমন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে বিএনপির ধানের শীষ আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা নিয়ে চলছে জোরালো তর্কবিতর্ক। চা বানাতে ব্যস্ত দোকানিও মাঝেমধ্যে তাঁদের আলাপে শামিল হচ্ছেন। গতকাল বুধবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে এই চিত্র দেখা যায়।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ভোটের মাঠে এবার তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল বাকী। এই আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।
সরেজমিনে উপজেলার তেরাইল, মোহাম্মদপুর, তেঁতুলবাড়ীয়া, দেবীপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকানগুলোয় গল্প-আড্ডার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোট এলে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন; কিন্তু ভোটে জয়ী হলে আর তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না। তাঁদের কাছের লোকেরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। আর সাধারণ ভোটারদের দুঃখ-কষ্ট রয়েই যায়।
উপজেলার করমদী গ্রামের সাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে, আমাদের দুঃখ-কষ্টগুলো বুঝবে, আমরা এমন প্রার্থীকেই ভোট দেব। আমাদের উপজেলাকে সুন্দরভাবে যে সাজাবে, আমরা চাই সে-ই বিজয়ী হোক।’
উপজেলার ভরাট গ্রামের হুরমত আলী বলেন, ‘যে ভালো কাজ করবে, জনগণের পাশে দাঁড়াবে, আমরা এমন মানুষকে ভোট দেব। আমরা একজন জনবান্ধব এমপি চাই।’
উপজেলার ঝোড়াঘাট গ্রামের ছেন্টু আলী বলেন, ‘আমাদের এই উপজেলার স্কুল-কলেজগুলো অবহেলিত থাকে। বেকার সমস্যাও বেশি। তাই বেকার সমস্যা বিষয়ে যে বেশি গুরুত্ব দেবে এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণের জন্য যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, আমরা তাকেই ভোট দিতে চাই।’
উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মোমিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গাংনী উপজেলায় এমন একজন এমপি দেখতে চাই, যিনি সৎ এবং যোগ্য। যিনি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সুখ-দুঃখে মানুষের হয়ে কাজ করবেন। স্বাস্থ্য খাতে নজর দেবেন। এমন একজন মানুষকেই আমরা এমপি হিসেবে চাই।’
মোহাম্মদপুর গ্রামের মিঠু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এখানে কোনো রোগী নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে রেফার করা হয় অন্য জায়গায়। পর্যাপ্ত চিকিৎসকও নেই। আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি স্বাস্থ্য খাত ও শিক্ষায় বেশি নজর দেবেন।’
চায়ের দোকানি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে চায়ের দোকানে প্রতিদিনই ভিড় হয়। চায়ের দোকানে একটাই আলোচনা, তা হলো নির্বাচন। কে হবে আগামীর এমপি? যারা চা খেতে আসছেন, প্রার্থীদের নিয়ে তাঁরা কথা বলছেন। তবে তাঁদের একটাই চাওয়া, এমপি যিনি হন, তিনি যেন জনবান্ধব হন। ভোটের এই গল্পগুলো আমি চা বানাই আর শুনতে থাকি।’
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গাংনী উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের পুলিশ, প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। আমাদের প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে।’