উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পদ্মা এবং যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে গাছপালা, ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙনের মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভাঙন। দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার বেশি হুমকিতে রয়েছে। ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার ১২টিই ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষায় নতুন করে একাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, হরিরাঘাট উত্তর পাটগ্রাম এবং কাঞ্চনপুরের কুশিয়ারচর এলাকাতেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ দিকে যমুনার শাখানদী ও কালীগঙ্গা ঘিওর উপজেলার আশাপুর, সড়কঘাটা, কুস্তা, চর কুশুন্ডা, নকীববাড়ি এলাকায় অন্তত ৫ বিঘা ফসলি জমি ও ৭-৮টি বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনরোধে দুই উপজেলার তিনটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের দাবি স্থায়ী ব্যবস্থার।
ঘিওর উপজেলার নকীববাড়ি গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, ‘চলতি বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমার এক বিঘা জমি ফসলসহ কালীগঙ্গা নদীতে চলে গেছে।’
দৌলতপুরের বাঘুটিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিজ প্রামাণিক ও সালেহীন মোমিন বলেন, প্রতিদিনই বড় বড় অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ঘরবাড়ি রক্ষা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত।
হরিরামপুরের কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক গাজী বলেন, ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার ১২টিই নদীগর্ভে চলে গেছে। এ বছরও নতুন করে ১২ থেকে ১৩টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়নই হারিয়ে যাবে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, শিবালয়ের পাটুরিয়া ও সোশ্যাল প্যান্ড এলাকা এবং ঘিওরের কুস্তা এলাকায় ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।