মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সরবরাহে বড় ধরনের বিভ্রান্তির ঘটনা ঘটেছে। প্রমোদা সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার হলে চাঞ্চল্য ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
আজ রোববার দৌলতপুর উপজেলা সদরের প্রমোদা সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষে এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় দৌলতপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার শুরুতে তাদের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস অনুযায়ী এমসিকিউ অংশের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দেওয়া হয়।
প্রায় ২৫ মিনিট পরীক্ষা চলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বুঝতে পারেন যে, শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সঠিক প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে আরও ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরীক্ষা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়। এ সময় পরীক্ষার্থীদের ঘটনাটি বাইরে প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যে শিক্ষকেরা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহ করেছেন, মূলত তাঁরাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।
অন্যদিকে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রসচিব মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে পরে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান।
ঘটনা সম্পর্কে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দায়িত্বশীলতার এমন ঘাটতি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।