মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের কলেজছাত্র রিদয়ান আনসারীকে (২৫) অপহরণের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। অপহরণকারীদের দাবির মুখে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েও ছেলেকে ফিরে পাননি স্বজনেরা। সন্তানের অপেক্ষায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা শারমিন আক্তার।
রিদয়ান রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন রিদয়ান। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি স্বজনেরা।
পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, রিদয়ানকে জিম্মি করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য রিদয়ানের সঙ্গে স্বজনদের কথা বলিয়ে দেন কথিত অপহরণকারীরা। এরপর তাঁকে জীবিত ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
রিদয়ানের জীবন বাঁচাতে স্বজনেরা বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় রিদয়ানের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত ২৫ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি রিদয়ানকে উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
রিদয়ানের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও গত সাত দিনে ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর ভাইকে যেন দ্রুত জীবিত উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা শারমিন আক্তার। পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। রিদয়ানের সন্ধান না মেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সহপাঠীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপহরণে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে রিদয়ানকে জীবিত উদ্ধার করা হোক।