মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের কাজের অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিক মো. ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর করে নগদ টাকা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান আনন্দ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতপুরের কলিয়া ইউনিয়নের উলাইল বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্ট সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে—এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান। সেখানে তিনি ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখতে পান এবং ভিডিও ধারণ করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর ওবায়দুর রহমান সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে মোটরসাইকেলে করে ফেরার সময় ঠিকাদার মো. সোহেলসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে মোটরসাইকেল টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে কাঠের বাটাম, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে থাকা কোরবানির গরু কেনার জন্য নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি ক্যানন ব্র্যান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এ সময় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আহত সাংবাদিককে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার সোহেলকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।