লালমনিরহাটে প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অপর এক প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আব্দুল মোন্নাফ (৬৩) লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোন্নাফের লিবিয়াপ্রবাসী ছেলে মিজানুর রহমান একই এলাকার মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুরকে চার বছর আগে লিবিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে কাজ দিলেও পাঁচ-ছয় মাস ধরে তাঁর কর্মস্থলে সমস্যার সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে মিজানুরের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই হাসানুরকে ফেরত আনতে আব্দুল মোন্নাফ ও তাঁর ছেলের ওপর চাপ দিচ্ছিল হাসানুরের পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল মোন্নাফকে আটক করে মহির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন ৩০ মিনিট।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় মহির উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল মোন্নাফ।
বৃদ্ধ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘আমার ছেলের মাধ্যমে হাসানুর লিবিয়া গেছে। সেখানে কী সমস্যা হয়েছে, তা তো আমি জানি না। আমি ছেলেকে বলেছি, হাসানুর চাইলে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে। তাকে দেশে পাঠাতে কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে একটু সময় লাগছে, যা হাসানুরের পরিবার দিতে চাইছে না। উল্টো হাসানুরের বাবা মহির উদ্দিন লোকজন নিয়ে আমাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছে। আমার সম্মানহানি করেছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, ন্যায়বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মহির উদ্দিনের বাড়ি গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি তদন্ত সজিব বলেন, বৃদ্ধকে কে বা কারা বেঁধে রেখেছিল, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।