লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ‘গাঁজাখোর’ বলার জেরে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সাপ্টিবাড়ি বাজারে লাশ নিয়ে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই অভিযুক্ত ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের জুয়েলের ছোট ছেলে রাব্বি (১২) সামান্য বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাদেন রাব্বিকে চড় মারে। বিষয়টি রাব্বি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা ও বড় ভাই রকি (১৮) ক্ষিপ্ত হয়ে লাদেনের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালান। যা স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক আপস করে দেন। কিন্তু আপস হলেও ক্ষিপ্ততা কমেনি।
রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন পাশের সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একা বসে ছিল। এ সুযোগে রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক দিয়ে লাদেনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত রকি ও তাঁর আত্মীয়স্বজনদের সাতটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা-পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং লাশ মর্গে পাঠায়। আজ বিকেলে লাদেনের লাশ নিয়ে বিচারের দাবিতে সাপ্টিবাড়ি বাজারে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে এক ঘণ্টা পরে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় নিহত কিশোরের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।