লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিদ হাসান রাব্বি (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) নির্মাণের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। নিহত জাহিদ সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের নূর হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় কালবৈশাখীর কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। জাহিদ মোটরসাইকেল চালিয়ে শহর থেকে দক্ষিণ তেমুহনীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে জাহিদ ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই চালক অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জনবহুল এ এলাকায় নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে স্থানীয়রা সেখানে অবিলম্বে গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী রনি বলেন, ‘মডেল হাসপাতাল এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছিল। আমরা বারবার গতিরোধকের দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি। তাই আজ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছি।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মহন্ত জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়দের বুঝিয়ে সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত গতিরোধক নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক অটোরিকশাটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।