আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহাম্মেদ। তিনি প্রক্টরের বিরুদ্ধে সাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন হয়। সেখানে তিনি এই আলটিমেটাম দেন। তবে দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে প্রক্টরের পদত্যাগের আলটিমেটাম ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ।
মানববন্ধনে ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহাম্মেদ বলেন, ‘সাজিদ হত্যার ছয় মাসের বেশি অতিবাহিত হয়েছে। সাজিদ হত্যার বিচার ছাড়া কোনো কাজই বিশ্ববিদ্যালয়ে থেমে নেই। এই টালবাহানা আর মানা হবে না। প্রক্টর সাজিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তীতে সাজিদের রুম থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র এদিক-ওদিক হয়েছে। সাজিদের রুমের চাবি অন্য এক শিক্ষার্থীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভির দায়িত্বও প্রক্টরিয়াল বডি নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছিল। আমরা বলতে চাই, এই ব্যর্থ প্রক্টরকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। আর যদি পদত্যাগ না করে, তাহলে প্রশাসনকে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে বুধবার বেলা ১১টার সময় উপাচার্যের অফিস ঘেরাও করা হবে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন, শিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মণ্ডলসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
মানববন্ধন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে আন্দোলনকারীরা তাঁর কার্যালয়ে যান। তবে উপাচার্য না থাকায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা।
এ সময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রক্টরকে প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছে। যেকোনো ত্রুটিতে তাঁর পদত্যাগ চাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। পদত্যাগ চাইলে সমগ্র প্রশাসনেরই চাইতে হবে। আপনাদের দাবি আমি উপাচার্যকে জানাব।’
অভিযোগ ও পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি নয়, বরং ছাত্রদলের একাংশের দাবি। ফুটেজ গায়েব হওয়ার দায়ভার প্রভোস্টের। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৫ জুলাই আমাদের কাছে একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও আমরা সেটি পাই ১৮ জুলাই। এখন পর্যন্ত আইসিটি সেল বিষয়টি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। সাজিদ ইস্যুতে সিআইডিকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করছি। তাঁরা যদি না চান, তাহলে এক মুহূর্তও আমি পদে থাকব না।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি একান্তই ছাত্রদল আহ্বায়কের ব্যক্তিগত। আমরা এই দাবির সঙ্গে একমত নই। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। কোন অদৃশ্যবলে বিচার আটকে আছে, তার উদ্ঘাটন চাই।’
মানববন্ধনের আয়োজক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একমত না। শুধু প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে লাভ নাই, চাইলে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগ চাইতে হবে। তা ছাড়া আজকে আমাকে প্রোগ্রামের আয়োজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে আমি প্রোগ্রামের আয়োজক ছিলাম না। আমি শুধু প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।