কুড়িগ্রামের উলিপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র প্রত্যেক ব্যক্তি ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ৮ কেজি চাল পাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্র অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তি এবং পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু হয়।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদে ৫৬ দশমিক ২৯০ টন চাল ৫ হাজার ৬২৯ ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করলে প্রত্যেকে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু অসহায় ব্যক্তিদের ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ৮ কেজি আবার কাউকে সাড়ে ৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে সরেজমিনে থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, কার্ডধারী দুই ব্যক্তির দুটি স্লিপের বিপরীতে বালতি দিয়ে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এরপর ওই চাল পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়ে পরিমাপ করলে ২০ কেজির জায়গায় ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম, আবার কারও ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম এবং কারও ১৮ কেজি ৫০০ গ্রাম দেখায়। অর্থাৎ অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিরা তাঁদের প্রাপ্য থেকে দেড় থেকে দুই কেজি করে চাল কম পান।
ভিজিএফের চাল নিতে আসা থেতরাই ইউনিয়নের খারিজা লাঠশালা এলাকার ববিতা আক্তার, শাহানারা বেগম, জয়নাল মিয়া, হাসিনা বেগম, বাকী মিয়া, এরশাদুল হকসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার থেকে আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। অথচ প্রায় সবাইকে দেড় থেকে দুই কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য চালেও যদি কম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব।’
এদিকে থেতরাই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আনিছার রহমান দাবি করেন, তাঁর সামনে কাউকে চাল কম দেওয়া হয়নি। তবে সুবিধাভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ চাল কম পেয়েছেন বলে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।
থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ওজনে চাল কম দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদেরও চাল দেওয়া হচ্ছে। তালিকা ছাড়া ব্যক্তিদের চাল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকে স্লিপ পেয়েও আসেননি। তাঁদের পরিবর্তে স্লিপ ছাড়া ব্যক্তিদের চাল দেওয়া হচ্ছে।’ যখন স্লিপ পাওয়া ব্যক্তিরা আসবেন, তখন কী করবেন—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাঁদেরও চাল দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি থেতরাই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (রোববার) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’