কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে একটি স্কুলসহ অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে পাকুন্দিয়া পৌরসভার টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালে দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে শুক্রবার বিকেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে শুক্রবারের ঘটনার জেরে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসীর হামলায় পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষ চলাকালে ব্র্যাক কল্যাণ স্কুলসহ প্রবাসী ও বিধবাদের অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।