কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি এই তাণ্ডব চালায়। আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পাটুয়াভাঙা ইউনিয়নের পুলেরঘাট বাজার এলাকা থেকে একটি পাগলা কুকুর পথচারীদের কামড়াতে শুরু করে। সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাকুন্দিয়া পৌর সদর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে কুকুরটি যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই আক্রমণ করেছে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চরপাকুন্দিয়া গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর স্বপন মিয়া (৫০); চরটেকী গ্রামের হারুন অর রশীদ (৫৫); মধ্য পাকুন্দিয়া গ্রামের আকিব আলম (১৫); ঘাগড়া গ্রামের আফরা (২০); বীরপাকুন্দিয়া গ্রামের সুমিত (১৮) ও লাবণ্য (১৫); শিমুলীয়া গ্রামের ইমরান (২২); নারান্দী গ্রামের আসমা (৩২), মানছু মিয়া (৪০), মোনতাজ উদ্দিনসহ (৭০) ৩২ জন পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর-এ-আলম খান বলেন, ‘বিকেল থেকে একের পর এক রোগী আসতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর রোগীর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, আহত ব্যক্তিদের জন্য সরকারিভাবে বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন ও যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। পাগলা কুকুরটিকে ধরার জন্য পুলিশ কাজ করছে এবং এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, পুলিশের টিম এলাকায় কাজ করছে, যাতে আর কেউ আক্রান্ত না হয়। দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাত ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।