সুন্দরবনে পৃথক অভিযানে অপহরণের স্বীকার কোস্ট গার্ডের ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৫ জেলে, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। তবে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি তারা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হচ্ছেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭) খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় সুন্দরবনের ডাকাত সাত্তার বাহিনী খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে জিম্মি করে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল জিম্মিদের রেখে সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে, তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকায় ৪টি দেশীয় ওয়ান শুটার, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ডাকাতদলের কাছে জিম্মি থাকা পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের কুমড়োখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও কোস্ট গার্ড স্টেশন নলিয়ান বিশেষ অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে সেখানে অভিনব কায়দায় লুকানো ৪টি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের গোলা ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।