খুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পৃথকভাবে তৈরি করা খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে। এসব অপরাধীকে গ্রেপ্তারে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি), র্যাব ও পুলিশের অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
গতকাল বুধবার মহানগর পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ সভায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কেএমপির কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে গতকাল বুধবার রাতেই অভিযান শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাত ৯টার দিকে নগরের ৭ নম্বর ঘাট এলাকার একটি মাদকের আখড়ায় অভিযান চালানোর মধ্য দিয়েই যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে দুজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে কেএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) অমিত বর্মণ জানান, সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় অংশ নেওয়া খুলনা র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা খুব সিক্রেট (গোপন) বিষয়। শিগগির আমরা অভিযান চালাব। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে খুলনা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত দেড় বছরেই শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে এই জেলায়। আর চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে খুলনায় ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি, পাল্টা গুলি নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে খুলনা জেলায় শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে র্যাব-৬। এ তালিকায় প্রাথমিকভাবে স্থান পেয়েছে শীর্ষ ১৫ চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অন্যান্য ১৮ জন।
এর আগে ২৮ চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী ও ৪০০ মাদক কারবারির তালিকা তৈরি করে কেএমপি। তিন মাস আগে এ তালিকা তৈরি করা হলেও আলোচিত কোনো চাঁদাবাজ বা শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশর তালিকায় ৪৭৫ এবং র্যাবের তালিকায় ৩৩ জনসহ মোট ৫০৮ জন খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি খুলনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
গত ৩১ মে খুলনা প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খুলনা-৫ (ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগার লবী এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দুজন পুলিশ কর্মকর্তার সামনে তাঁরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।