হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

প্রক্রিয়াজাতের সংকটে মানিকছড়িতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

নিজের চাষ করা সূর্যমূখী খেতে প্রকৌশলী এম আমিরুল ইসলাম রকি। গত বুধবার তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাহাড় ও সমতলে ঘেরা কৃষিনির্ভর জনপদ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা। এখানকার প্রান্তিক কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। মাটি ও আবহাওয়া মৌসুমি ফসল চাষের জন্য উপযোগী হলেও তেলজাত ফসল সূর্যমুখীর বীজ প্রক্রিয়াজাতের সুযোগ না থাকায় তা আবাদে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রথম সূর্যমুখী চাষ শুরু হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। সে সময় ২০ জন কৃষক ২ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে এই ফসলের আবাদ করেন। পরের বছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০ জন কৃষক ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন। তবে চলতি মৌসুমে ৩০ জন কৃষক ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হলেও বীজ থেকে তেল প্রক্রিয়াজাতের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় আবাদ বাড়ছে না বলে জানান কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে ৩০ জন প্রান্তিক কৃষককে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক পেয়েছেন ২ কেজি বীজ ও ৩০ কেজি সার। কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে খেতজুড়ে সূর্যমুখীর ফুল ফুটে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। বেড়েছে মৌমাছির আনাগোনা। প্রকৃতিপ্রেমীরাও খেত দেখতে ভিড় করছেন।

উপজেলার যোগ্যাছোলা এলাকার উদ্যোক্তা ও প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম রকি চলতি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, তেলজাত বীজ প্রক্রিয়াজাত করার আধুনিক মেশিন এখানে নেই। আপাতত স্থানীয়ভাবে দেশীয় পদ্ধতিতে তেল উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাজারে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বেশি থাকলেও প্রক্রিয়াজাতের অভাব বড় বাধা।

সূর্যমূখী খেত পরিদর্শনে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া ও কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনটহরী বিলে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন কৃষক শাহাদাত হোসেন বাবু। তবে উৎপাদিত বীজ ভাঙানোর ব্যবস্থা না থাকায় তিনি এ ফসল চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত বা প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে কৃষকেরা চাষে নিরুৎসাহিত হন। সূর্যমুখী লাভজনক হলেও সেই সুবিধা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

উপজেলার ধর্মঘর বিল, যোগ্যাছোলা, কালাপানি, তিনটহরী, বাটনাতলীসহ ১১টি কৃষি ব্লকে এবার সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গাছগুলোতে তেমন রোগবালাই নেই। ফুলে ফুলে সেজে ওঠা খেত দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করছে।

ধর্মঘর বিলে ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষক মংসাথোই মারমা। তিনি বলেন, ‘খেত এখন ফুলে ভরে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এসে খেত পরিদর্শন করছেন। তবে উৎপাদিত বীজ থেকে তেল বের করতে পাশের গুইমারা বা মাটিরাঙ্গা উপজেলায় যেতে হয়। মানিকছড়িতে আধুনিক মেশিন স্থাপন করা হলে সূর্যমুখী ও সরিষা চাষ আরও বাড়বে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জহির বলেন, ‘এই এলাকায় সূর্যমুখী ও সরিষা চাষ লাভজনক এবং মাটি-আবহাওয়াও উপযোগী। চলতি মৌসুমে ৩০ জন কৃষক ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আপাতত কৃষকেরা দেশীয় পদ্ধতিতে তেল উৎপাদন করবেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভবিষ্যতে আধুনিক তেল প্রক্রিয়াজাত মেশিন স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র: ভাঙাচোরা সড়ক-সেতু, কমছে পর্যটক

খাগড়াছড়িতে বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া বিজয়ী

খাগড়াছড়িতে ভোট দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

খাগড়াছড়ির সাবেক মেয়র ঢাকায় গ্রেপ্তার

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সমীরণ দেওয়ানকে বহিষ্কার

খাগড়াছড়ি: তালাবদ্ধ কিডস জোন, বিনোদনবঞ্চিত শিশুরা

ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অন্যদের ব্রিফিং

হালদার উপশাখা থেকে বালু তোলায় ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প: পাহাড় কাটার অভিযোগ তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন

খাগড়াছড়িতে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে গেলেন ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী