ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ‘জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেই। তাই প্রকৃত অর্থে তাদের ইসলামি দল বলা যায় না।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝালকাঠি ঈদগাহ মাঠে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাঁদের হাত ধরেই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এরই পরিণতিতে বিদেশে গড়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘বেগমপাড়া’।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের শাসকেরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রসঙ্গ চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের পক্ষে এক বাক্সের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করেছিল।
কিন্তু পরবর্তীকালে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়—ক্ষমতায় গেলে তাঁরা শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন না। ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় ওই জোট থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জামায়াতের সমালোচনা করে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তাদের প্রকৃত চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। জামায়াতের মতো এত বড় মিথ্যাবাদী দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি আর নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর অনেকেই ভেবেছিল চরমোনাই একা হয়ে পড়েছে। বাস্তবে ইসলামী আন্দোলন এখন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে। সাধারণ মানুষ হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছে।’
মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী ও ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।