যশোরের বেনাপোলে সোহাগ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার আসামিরা হলেন বেনাপোল পোর্ট থানার মো. ইসমাইলের ছেলে কুতুব উদ্দিন আশা (৩০), একই এলাকার ইসরাফিলের ছেলে নয়ন (৩০) ও চয়ন (২৭), জামু সরদারের ছেলে বাবু (৪০), বড় আঁচড়া গ্রামের মোতাহার মিস্ত্রির ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৮), গাতিপাড়া গ্রামের হবির ছেলে রনি (২৮), নামাজ গ্রামের রাজু (৩৪) এবং ছোট আঁচড়া গ্রামের ইসরাফিল (৫৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা-সংক্রান্ত পাওনা ৪৮ লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সোহাগ হোসেনের অফিসে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে একই দিন রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনটি গুলি ছোড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি অক্ষত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার রাতেই সোহাগ হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয় লোকজন আলমগীর নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও রহস্যজনক কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় তিনি ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। এই অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তার এবং হামলায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া জনতার হাতে আটক ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তাঁরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।