জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় কয়েক দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের বিভিন্ন সময় এবং গভীর রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো ১৫ থেকে ২০ মিনিট, আবার কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে ঘরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
উপজেলার পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে বিদ্যুৎচালিত সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকের ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
শিক্ষার্থী সাদিক জানান, সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে এবং পড়াশোনার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্টিং, মোবাইল সার্ভিসিং, ওয়েল্ডিং এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। ঘন ঘন লোডশেডিং চিকিৎসাসেবার পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কার্যকর লোড ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আকবর হোসেন মিঞা বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে তিনি জানান।