হোম > সারা দেশ > হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ৫০০ একর জমির ধান

সহিবুর রহমান, হবিগঞ্জ 

হুগলির হাওরে তলিয়ে থাকা ফসলের খেত। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি হয়েছে। গতকাল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরের প্রায় ৫০০ একর বোরো জমির আধা কাঁচা ধান টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে ওই এলাকার কৃষকদের। অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হুগলির হাওরসহ পার্শ্ববর্তী হাওরগুলোতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় এমন ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাঁরা। আগাম বন্যা অথবা বৃষ্টির পানি থেকে হাওরকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ চান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

ইকরাম গ্রামের পার্শ্ববর্তী হুগলির হাওরে ঋণ নিয়ে ৮ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছিলেন কৃষক আহ্লাদ মিয়া। কিন্তু কয়েক দিন যাবৎ বৃষ্টির পানি বাড়ায় দিন যত যায়, দুশ্চিন্তা ততই বাড়ে ওই কৃষকের মাঝে। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ দিয়ে জমি টিকিয়ে রাখলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাওরে থাকা তাঁর ৮ বিঘা জমিই তলিয়ে গেছে। ফলে ঋণ পরিশোধ আর পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। এ ছাড়া তাঁর মতোই অবস্থা আরও শত শত কৃষকের।

হুগলির হাওর তলিয়ে গেলেও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাদেশ্বরা, বালি এবং ব্যাঙ্গা হাওর। ফের বৃষ্টি হলে এই তিনটি হাওরের হাজার হাজার একর বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের দাবি, ফসল রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতিবছরই ফসলহানির শঙ্কায় থাকেন তাঁরা।

কৃষক প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, প্রায় ছয় বিঘা জমি ধারে টাকা নিয়ে চাষ করেছিলেন। বৃষ্টির পানিতে ছয় বিঘা জমিই এখন পানির নিচে। যে কারণে ধারের টাকা পরিশোধসহ অভাবের সংসার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। প্রদীপ বলেন, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এখন তাঁদের বেঁচে থাকা অসম্ভব।

কুটি মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, ‘এভাবে চোখের সামনে আমার সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল তলিয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। এখন সারা বছর কী খামু আর কীভাবে পরিবার নিয়ে চলমু, সেই চিন্তায় দিনরাত কাটছে।’

কৃষক সালমান মিয়া বলেন, ‘উগলি হাওরে আমাদের পাঁচ বিঘা জমি ছিল। সব জমিই এখন পানির নিচে। একটি জমির ধানও কাটা সম্ভব হয়নি। আমরা এখন কী করমু, কী খামু, কীভাবে চলমু?’

সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বাঁধ উপচে উগলি, বাতাসর ও বালি হাওরে পানি ঢুকছে। এতে অনেক কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে বাতাসর ও বালি হাওরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন বলেন, হাওরটি নিচু এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে উঁচু এলাকা এখনো অক্ষত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জের বাহুবলে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রবাসী বাবা ও ছেলের মৃত্যু

হবিগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, অস্ত্রসহ আটক ২

হবিগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জে বিচার সালিসে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩০

হবিগঞ্জে দুই ইটভাটাকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

হবিগঞ্জে মাদক কারবার নিয়ে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজন নিহত

নবীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, প্রধান অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

হবিগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি