হবিগঞ্জে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিক্ষার্থী তার মায়ের মৃত্যুর পর নানাবাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছিল। সম্প্রতি সে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবীর সহকারী দিলীপ দাশের ছেলে জীবন দাশের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
মেয়েটির নানা জানান, গতকাল রোববার সকালে পরিবারের অগোচরে আবারও তাঁর নাতনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান জীবন দাশ। পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মেয়েটির মৃত্যু হয়। এ সময় তার নাক-মুখ রক্তাক্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, আত্মহত্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।