গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিস্ফোরণে ঝলসে যাওয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মতিউর রহমানের (২৩) বাড়ি পরিদর্শন করেছেন পুলিশের বোম ডিসপোজল টিমের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার ঢাকা থেকে টিমের সদস্যরা উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা বাজার এলাকার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। পরে সেখানে একটি অবিস্ফোরিত ককটেলসদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করা হয়।
মতিউর রহমান উপজেলার নিলফা বাজার এলাকার মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে এবং সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মতিউরের বাড়িতে বিস্ফোরণের ব্যাপক শব্দ হয়। পরে সেখানে গিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসানো দেখতে পাওয়া যায়। তখন স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।
পরে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশের দুই সদস্যসহ তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অসিম কুমার ধর বলেন, তাঁর ক্ষত দেখে আতশবাজি থেকে ঝলসানো মনে হয়নি। যে ধরনের ক্ষত হয়েছে তাতে মনে হয়েছে ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে।
তবে আহত মতিউরের স্বজনদের দাবি, তাঁর এক আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষে সে আতশবাজি বানানোর চেষ্টা করছিল। আতশবাজি বানানোর সময় তা বিস্ফোরিত হয়ে তাঁর ডান হাতের আঙুলের একাংশ উড়ে যায়, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
এ বিষয়ে ওসি আইয়ুব আলী বলেন, মতিউর রহমান দেড় মাস আগে প্রথম ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক বস্তুটি তৈরি করে। সেটি সে সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণ করার পর ২২ মার্চ এ ধরনের আরও একটি বিস্ফোরক বস্তু গ্রামের বাড়ির পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়।
গতকাল সোমবার তাঁর বাড়িতে বসে এসএস পাইপের মধ্যে দেশলাইয়ের বারুদসহ কিছু উপাদান ভরে দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু তৈরি করে মতিউর। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণের পর তাঁর হাত-পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। অপরটি অবিস্ফোরিত ছিল।
ওসি আরও বলেন, বিস্ফোরণে ওই মাদ্রাসাছাত্রের হাত-পা ও মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। পরে আহত যুবকে পুলিশ পাহারায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ তাঁকে খুলনা থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।