গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকের টাকার জন্য নিজের শিশু সন্তানের গলায় ধারালো চাকু ধরে স্ত্রীকে ভিডিও পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেলদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে ওইদিনই দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম ইমরান হোসেন (১৪)। সে একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করে।
অভিযুক্তের নাম মোকসেদ আলী। তিনি বেলদিয়া গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে। এ ঘটনায় শিশুর মা ইয়াসমি আক্তার শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির গলার কাছে ধারালো চাকু ধরে সেটি ঘোরানো হচ্ছে এবং স্ত্রীকে উদ্দেশ করে কথা বলা হচ্ছে। শিশুটি তখন অচেতন ছিল। সাদা কাপড়ে তার মুখের বেশির ভাগ অংশ মোড়ানো ছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, মোকসেদ আলী আগে চাকরি করতেন। পরে অসৎ সঙ্গের কারণে মাদকে জড়িয়ে পড়েন। মাদকের টাকার জন্য তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করতেন এবং কয়েক দফায় শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিয়েছেন। নির্যাতনের কারণে স্ত্রী ইয়াসমি আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। ছেলে ইমরান মাদ্রাসার আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করে।
ইয়াসমি আক্তার বলেন, `আমার ছেলে ইমরান হেফজ বিভাগে পড়ে। মেয়ে ইভামনি আমার সঙ্গে আমার বাবার বাড়িতে থাকে। আমি প্রতিদিন সকালে ডিউটিতে চলে যাই। গতকাল দুপুরে তার বাবা (মোকসেদ আলী) মাদ্রাসায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার আহত হওয়ার বানোয়াট গল্প বলে তাকে নিয়ে আসে। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অচেতন করে গলায় ছুরি ধরে ভিডিও বানিয়ে আমাকে পাঠায়। এ ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করে।'
ইয়াসমি আক্তার আরও বলেন, “এখন তাকে অন্য মাদ্রাসায় পড়াবো। সে এখন থেকে আমার সাথেই থাকবে। আমার দুই সন্তান নিয়ে আমি চরম অনিরাপত্তায় ভুগছি।”
কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, `মাদকাসক্ত বাবা শিশুকে জিম্মি করে তার মার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চাইছিল। পরে পুলিশ শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এখন শিশুটি সুস্থ আছে।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, `মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে স্বজনদের সহায়তায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'