গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। বিকেলে তাঁদের সরিয়ে দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
এ সময় শ্রমিকেরা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ইটপাটকেল ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
আজ দুপুরের পর বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ১০ থেকে ১২টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
নাওজোড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, বিকেলে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে সেসব কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে অংশ নেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট রয়েছে।
কারখানার শ্রমিক মিনারা খাতুন বলেন, বর্তমানে যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগ নেই। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
মিনারা খাতুন বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ওপর বল প্রয়োগ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তাহলে আমাদের দাবি মেনে নিলে কী সমস্যা?’
নাওজোড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল করিম জানান, শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে তাঁরা ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরের খাবারের বিরতির পর শ্রমিকেরা কর্মস্থলে না গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
আজ বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল।