পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের সব শিল্পকারখানায় দ্বিতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা করায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। যানবাহনের সংকট, বৈরী আবহাওয়া এবং বাড়তি পরিবহন ভাড়া আদায়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা ও রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজট দেখা যায়। থেমে থেমে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে যানবাহন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিটার সামনে এগোতে পারছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পুলিশ, পরিবহন চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এতে পুরো মহাসড়কজুড়ে স্থবির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণার পর লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহন চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ে। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে ট্রাক ও পিকআপেও বাড়ির পথে যেতে দেখা গেছে।
একদিকে চলমান ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে বাইপাইল এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি, অন্যদিকে চন্দ্রা ত্রিমোড় দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি যোগ হওয়ায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এর আগে সোমবার গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে রাতভর উত্তরাঞ্চলগামী মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ গাজীপুর ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেন। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
বগুড়াগামী যাত্রী মমিন বলেন, “সকালে কারখানা ছুটির পরই বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। সাধারণ সময়ে চার ঘণ্টায় বাড়ি পৌঁছানো যায়। কিন্তু এখন সকালে বের হয়েও রাতে পৌঁছাতে পারবো কিনা জানি না। একদিকে তীব্র যানজট, অন্যদিকে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ভাড়া—সব মিলিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। ”
পরিবহন চালকরা জানান, সব শিল্পকারখানায় একযোগে ছুটি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সামান্য সামনে এগোতে পারছে যানবাহন।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, “বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় চাপ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যানজট নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চন্দ্রা এলাকায় রাতে প্রায় ২৫০ পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। ”