পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গাজীপুরে আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে ধাপে ধাপে পোশাক কারখানার ছুটি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে।
এদিকে সকাল থেকে টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং তীব্র যানজট হয়। এই অবস্থায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে কলেজগেট পর্যন্ত যানবাহন থেমে থেমে চলছে। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার সড়কে হাঁটুপানি জমে গেছে। সালনা, বাঘের বাজার, মাস্টারবাড়ি, মাওনা, এমসি বাজার, নয়নপুর, জৈনা বাজারসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় ধরে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা।
সালনা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী মনিরুল ইসলাম ও আয়েশা দম্পতি জানান, ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত ভিড় ও যানজটের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
ইমাম পরিবহনের চালক শরিফ হোসেন বলেন, সকাল থেকে সড়কে যানবাহন খুব ধীরগতিতে চলছে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে।
টঙ্গী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি ও কারখানা ছুটির কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে এবং টঙ্গী থেকে কলেজগেট পর্যন্ত যান চলাচল অত্যন্ত ধীর।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঈদের সময় এ সড়কে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যান চলাচল করে, ফলে যানজট পুরোপুরি এড়ানো কঠিন।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, গাজীপুরে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানার মধ্যে আজ ৪৫ শতাংশ ছুটি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ধাপে ধাপে অন্য কারখানাগুলোতেও ছুটি হবে।
জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধায় বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।