গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের টিয়ার শেলে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সফিপুর এলাকায় অবস্থিত মাহমুদ ডেনিমস কারখানার শ্রমিকেরা তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদ ডেনিমস কারখানার শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এর আগে শ্রমিকেরা কয়েক দফা কারখানার মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং গত রোববার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। সে সময় পুলিশ ও মালিকপক্ষ আলোচনার আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
কিন্তু বকেয়া বেতনের কোনো সুরাহা না হওয়ায় আজ সকালে শ্রমিকেরা পুনরায় আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকেরা পুলিশের কথা না শুনে বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন। ওই আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন সহকর্মীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত শ্রমিকদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
শ্রমিকেরা অভিযোগ করে জানান, তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাসাভাড়া ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলে পুলিশের টিয়ার শেলে তাঁরা আহত হন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’