অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয় সমবায় আন্দোলন, যুগে যুগে জাতির কল্যাণে এই সমবায় কাজে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ রোববার সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার নাগরী এলাকায় কাল্ব রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ডে সমবায় আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও এ আন্দোলন তার কার্যকারিতা ধরে রেখেছে। এখনো এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অসংখ্য মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে সমবায় খাতের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় মহিলা সংস্থার কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আতাউর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সমবায় সমিতিগুলোকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সমবায় সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আলোচনা সভা শেষে সমবায় কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও সফল সমবায়ীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।