গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. মকবুল হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও শাবল উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মকবুল হোসেন ওই গ্রামের মৃত ফেলান উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ শতক জমি নিয়ে মকবুল হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের শাহাবুদ্দিন মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ধুবনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সালিসও হয়েছিল। তবে তাতে বিরোধের মীমাংসা হয়নি।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মকবুল হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এতে আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও শাবল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামের শাহাবুদ্দিন মিয়া (৬০), নজরুল ইসলাম (৫০), মঞ্জু মিয়া (৪০), রেজাউল করিম (২৮), রাশেদুল ইসলাম (২৮), মোকছেদুল ইসলাম (১৮), আবিল হোসেন (১৮), মিন্টু মিয়া (৩৫), লিটন মিয়া (৩৫), নিরফুল বেগম (৪০), কল্পনা বেগম (২৫), নুর ভানু (৪৫), শিল্পী বেগম (৩৫), খোরশেদা (২৬), ফাতেমা বেগম (১৯) ও শাবানা খাতুন (২২)।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।