গ্রামবাংলার নানা উৎসব-পার্বণে চিত্তবিনোদনের খোরাক লাঠিখেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে লাঠিখেলার সেই বিনোদন আর নেই। গ্রামবাংলার সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ বুধবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নলডাঙ্গার উমেশ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় লাঠিখেলার। আর খেলা দেখতে মাঠে মানুষের ঢল নামে।
ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ জমায়েত হন। ঢোলের তালে নেচে-নেচে খোলোড়দের লাঠিখেলা দেখে মুখরিত হয় পুরো মাঠ। খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঢোল আর লাঠির তালে তালে নাচ, অন্যদিকে প্রতিপক্ষে লাঠির আঘাত হতে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঝে।
খেলা দেখতে আসা বিপ্লব সরকার নামের এক শিক্ষক বলেন, আগের মতো আর লাঠিখেলা তেমন চোখে পড়ে না। আধুনিকতার সমাজে সেই লাঠিখেলার স্থান আজ দখল করে নিয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন।
তা ছাড়া অতীতের খেলার পরিবর্তে মোবাইলে চলছে পাপজি, ফ্রিফায়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা। কিন্তু শত বাধাবিপত্তিকে উপেক্ষা করে গ্রামবাংলায় আজও দু-একটি জায়গায় চলে অতীতের লাঠিখেলা।
কানন সরকার (১৮) বলেন, ‘দাদা-নানার মুখে শুধু লাঠিখেলার কথা শুনেছি। আজ নিজেই খেলা উপভোগ করলাম। ভালো লাগল। অতীতের অনেক খেলার মধ্যে আনন্দ-বিনোদন লুকিয়ে আছে। সত্যিই এই লাঠিখেলা দেখে আমি মুগ্ধ।’
আয়োজক শাওন সরকার বলেন, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা আজ বিলুপ্তপ্রায়। আগে দেখতাম, গ্রামের সাধারণ মানুষেরা বাংলা বর্ষবরণ, বিবাহ, চড়কপূজা, সুন্নতে খতনা উপলক্ষে লাঠিখেলার আয়োজন করত। সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই আমি লাঠিখেলার আয়োজন করেছি। আগামী বৈশাখের উৎসবে এমন আয়োজন করব।’