ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৪ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন খাদেমুল ইসলাম খুদি। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
খাদেমুল ইসলাম খুদি এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী দল জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের অনুমোদনে খুদিকে আহ্বায়ক করে গাইবান্ধা জেলা এনসিপির ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তবে তাঁকে জেলা আহ্বায়ক করাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কমিটি অনুমোদনের পর বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগও করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা যায়। কেউ কেউ খুদির রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পুরোনো কিছু বক্তব্য ও ভিডিও পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে। এসব প্রসঙ্গ টেনে খাদেমুল ইসলাম খুদিকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্কের আলোচনা চললেও খাদেমুল ইসলাম খুদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সাদুল্লাপুর উপজেলায় ‘সুধী সমাবেশ’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেন খাদেমুল ইসলাম খুদি। প্রশাসনের নজরে আসার পর ওই আয়োজন স্থগিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় তখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুদির এক বন্ধু বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ক্ষমতার রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল।
এদিকে তরুণ ভোটার শামসুল আলম বলেন, ‘পল্টিবাজ রাজনীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, ‘আমি কোনো দলের প্রার্থী নই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আমার সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক নয়।’
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিদাদুর রহমান দিবস বলেন, খুদির বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের দায়িত্বশীলেরা।