গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও পলাশবাড়ী উপজেলার তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্ব স্ব উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার।
পলাশবাড়ীর বাসুদেব পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অ্যাডমিট কার্ড না থাকায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা কেটে গেছে। পলাশবাড়ীর দুই প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট হাতে নিয়ে পরীক্ষায় বসেছে।’
এর আগে গতকাল দুপুরে বিদ্যালয়ে অ্যাডমিট কার্ড না পেয়ে গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯ জন এবং জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জনসহ মোট ৬৫ পরীক্ষার্থী পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়। সেখানেও সমাধান না পেয়ে রাত ৯টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এলাকা ও ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াশা রহমান তাপাদার এবং থানা-পুলিশের কর্মকর্তারা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে রাতেই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ সকালে পরীক্ষার্থীদের হাতে অ্যাডমিট কার্ড তুলে দেন। অন্যদিকে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের শোকজ করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
এ ছাড়া গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ পরীক্ষার্থীর ভুলে ভরা অ্যাডমিট কার্ড সংশোধন হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। তিনি বলেন, ‘গতকালই পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ডের ভুলগুলো শিক্ষা বোর্ড সফটওয়্যারে ঠিক করে দিয়েছে। পরে প্রিন্ট করে পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এ বছর গাইবান্ধা জেলায় মোট ৬৮টি কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৫২৭ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৪২টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২৬ হাজার ২১ জন। এ ছাড়া ১৫টি কেন্দ্রে এসএসসি ও দাখিল (ভোক) পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৯৮ জন এবং ১১টি কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় ৫ হাজার ৯০৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।