হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

হাসান মাতুব্বর, ফরিদপুর

মাদক কারবারের অভিযোগে নির্যাতন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। গত চার দিনে অন্তত তিনটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় মাদক কারবারের অভিযোগে একজনকে নির্যাতন এবং অপর এক দম্পতির দুটি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সক্রিয় হয়েছেন। কোথাও কোথাও গ্রাম্য সভা করে মাদকের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতায় আস্থাহীন হয়ে তাঁরা এমন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে এই প্রবণতাকে মবতন্ত্র বলে সমালোচনাও উঠেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামে সালেহ আহমেদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সালেহ আহমেদ ও তাঁর দুই স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার করে আসছিলেন।

২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি সালেহ আহমেদকে কিল-ঘুষি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তাঁর পরনের লুঙ্গি খুলে গেলেও নির্যাতন চলতে থাকে। ভিডিওতে এক যুবককে ইট দিয়ে তাঁর পায়ে ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। নির্যাতনের শেষে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং আর মাদক বিক্রি করবেন না বলে অঙ্গীকার করানো হয়।

একই ভিডিওতে আরও দুজনকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মুনজুর আহমেদ কুদ্দুস জানান, সালেহ আহমেদ সম্প্রতি মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে যান এবং ছয় দিন আগে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দুই স্ত্রীও মাদক কারবার করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুনজুর আহমেদ কুদ্দুস বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০ পরিচিত-অপরিচিত লোক তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এসব কারণে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িতে যায় এবং সালেহ আহমেদকে ধাওয়া দেয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী পালিয়ে একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে এলাকাবাসী তাঁকে ধরে মারধর করে।

ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘বিষয়টি ফেসবুকে দেখে খোঁজ নিয়েছি। তবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি, পুলিশে দেওয়া উচিত ছিল।’

একই দিন সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদী গ্রামে ময়না বেগম (৪৫) ও আইয়ুব শেখ ওরফে আয়নাল নামের অভিযুক্ত এক দম্পতির নির্মাণাধীন ভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং ভাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা ও মুকসুদপুর উপজেলায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক শ মানুষ গ্রামের দুটি ভবন ভাঙচুর করছেন। লোহা, শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। তাঁদের বসবাসের ঘর ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সেখানে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মেজর (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গাঁজা ও ইয়াবা কারবারি। তাঁদের কারণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ময়না বেগম মাদক সম্রাজ্ঞী ও তাঁর স্বামী আইয়ুব শেখ মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এ দম্পতির ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, তাঁরা মাদকসহ বারবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে একই কার্যক্রম শুরু করেন।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ময়না বেগম ও আইয়ুব শেখের বিরুদ্ধে চলতি বছরেই ভাঙ্গা থানায় তিনটি মামলা হয়েছে এবং তাঁদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সালেহ আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী কথা বেগমের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদক কারবারিদের দমনের নামে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। পাশাপাশি এলাকাবাসী মাদক কারবারের অভিযোগে কাউকে ধরে থানায়ও সোপর্দ করেনি।

ওসি আরও জানান, এ মব যাতে আর সৃষ্টি না হয় এবং আগামী দিনে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো ঘটনা শোনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই এ টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে যাবেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আমরা বিট পুলিশিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ছাড়া নির্যাতন ও বাড়িতে হামলার ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মায়ের লাশ দেখতে ছুটছিলেন, পথেই নিভে গেল মেয়ের জীবন

ফরিদপুরে নদ থেকে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পাটখেতে মিলল যুবকের মরদেহ

১০ বছরের প্রবাসজীবনের পর বাড়ি ফেরা হলো না, বিয়ের আগেই নিভে গেল ৫ প্রাণ

ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৫

ফরিদপুরে ২ নারীসহ তিন খুন, সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ফরিদপুর মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ঈদে ফরিদপুরের সড়কে ঝরল ৬ প্রাণ

কোরবানির মাংস মসজিদ নাকি মাতব্বরের বাড়ি যাবে—তর্কে জড়িয়ে সংঘর্ষে আহত ৩০

ভাইরাল শিল্পী লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন