ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময় রাস্তার ওপর প্রতিমা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই মন্দিরের পূজার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হরিমন্দির যুব সংঘের সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও একজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার দুধবাজার এলাকার নদীর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা বাজার চালপট্টি হরিমন্দির যুব সংঘ এবং কুমারপট্টি তরুণ সংঘের উদ্যোগে ৫০ হাত দূরত্বে পাশাপাশি দুটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে হরিমন্দির যুব সংঘের লোকজন প্রথমে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নদীর ঘাটে যান।
কিছুক্ষণ পর কুমারপট্টি তরুণ সংঘের লোকজনও প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ঘাটে যান এবং একটি প্রতিমা রাস্তার ওপর রাখেন। হরিমন্দিরের সভাপতি স্বপন দাস প্রতিমাটি সরিয়ে রাখতে বললে তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে দুই পক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কুমারপট্টি তরুণ সংঘের ২০-৩০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে হরিমন্দির যুব সংঘের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় হরিমন্দির যুব সংঘের সভাপতি স্বপন দাসসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
হরিমন্দিরের সভাপতি স্বপন দাস বলেন, ‘তরুণ সংঘের দুটি প্রতিমা চলাচলের পথ আটকে রাখা হলে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। তখন সুব্রত রায় এসে বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর রেখেছি, কেন প্রতিমা সরাব?” এরপর তাঁর লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে আমার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি, আমার স্ত্রী, আমার ভাই ও আমাদের অনেক লোক আহত হয়েছেন। সামান্য ঘটনা নিয়ে তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়ের নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তরুণ সংঘের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।