আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় শাহিনা খাতুন নামে এক পোশাক শ্রমিককে খুনের দায়ে প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুনির হোসেন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার আগে শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শাহিনা খাতুন জিরাবো এলাকায় অ্যাপারেলস লিমিটেড ফ্যাক্টরি নামের গার্মেন্টসে অপারেটর ছিলেন। শরিফুল ইসলামও ওই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এক সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। শরিফুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
এক সময় শাহিনা শরিফুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে শরিফুল তাঁর প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তিন দিন পর আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে শরিফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফজল আলী। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।