ঢাকার সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন ঋষি (১৫) নামে এক কিশোর হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার দুই চোখ দৃষ্টিহীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
হামলার ঘটনায় রিপনের ভগ্নিপতি স্বপন সূত্রধর আজ শুক্রবার রাতে সাভার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামিরসহ তার এক আত্মীয় ও কয়েকজন সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে।
এ দিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামিরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
তবে মাহবুব হোসেন সামির মারধর বা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
রিপন ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকার জীবন ঋষির ছেলে। সে বাবা মায়ের সঙ্গে সাভার পৌরসভার রাজাসন মহল্লায় থাকে। জীবন ঋষি পেশায় একজন চর্মকার এবং তার স্ত্রী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
হামলার শিকার রিপনের ভগ্নিপতি স্বপন সূত্রধর বলেন, গত ৩০ মে রাজাসন পালোয়ান মার্কেটের সামনে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় ছাত্রদল নেতা সামিরের এক সহযোগীর সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি সামিরকে জানান।
রিপন আরও বলেন, সামিরের নির্দেশে গত ২ জুন মানিক ও সজীব নামে তার দুই সহযোগী রিপনকে সামিরের পালোয়ান মার্কেটের অফিসে ধরে নিয়ে যান। অফিসে নেওয়ার পর তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাত করা হয়।
এ ছাড়া বারবার তার মাথা দেওয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে সজোরে ধাক্কা মেরে আঘাত দেওয়া হয়। তার দুই চোখে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। প্রচণ্ড আঘাতে তার দুই চোখ দিয়েই রক্তক্ষরণ হয়। উপর্যুপরি মারপিট ও চোখের আঘাতের কারণে রিপন অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাসার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
রিপনের মা আসন্তি ঋষি বলেন, ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় রিপনকে প্রথমে সভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
ভুক্তভোগীর মা আরও জানান, তার ছেলে দুই চোখে কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের প্রভাবে এবং চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় দুই চোখই বিনষ্ট হয়ে গেছে বলে চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তার ছেলের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
আসন্তি ঋষি আরও বলেন, থানায় অভিযোগ করার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলাদার হওয়ায় সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামিরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদল ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, থানায় এফ আই আর হওয়ায় কেন্দ্রের নির্দেশে মাহবুব হোসেন সামিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামিরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আজ শুক্রবার রাতে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।