রাজধানীর বনানীতে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মেহেরাজ ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।
বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে বনানী থানা-পুলিশ। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক এ কে এম মাইন উদ্দিন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় গাইবান্ধা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মহাখালী হাজারীবাড়ীর বাসিন্দা।
গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিবাদের জেরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২৩ ব্যাচের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম পারভেজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
নিহতের মামাতো ভাই হুমায়ুন কবীরের করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দুই নেতাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন মেহেরাজ ইসলাম (২০), আবু জর গিফারী পিয়াস (২০), মাহাথির হাসান (২০), সোবহান নিয়াজ তুষার (২৪), হৃদয় মিয়াজী (২৩), রিফাত (২১), আলী (২১) ও ফাহিম (২২)।
তাঁদের মধ্যে এজাহারে সোবহান নিয়াজ তুষারের পরিচয় দেওয়া হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। হৃদয় মিয়াজীর পরিচয় দেওয়া হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একই ইউনিটের যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে। এ মামলার অন্যতম আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব হৃদয় মিয়াজীকে (২৩) গত বুধবার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২১ এপ্রিল এই মামলায় গ্রেপ্তার আলভী হোসেন জুনায়েদ (১৯) ও আল আমিন সানিকে (১৯) সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলার দুই আসামি আল কামাল শেখ ও মাহাথির হাসান গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার হত্যার দায় স্বীকার করে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁরা কারাগারে আছেন।