মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। চলতি বছর ২৮ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।
এর আগে ২০১৭ সালে নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
সোমবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিইউ’র মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ সুপার আসলামুল হক জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় নজরুল। দীর্ঘ ৫ বছর পলাতক থাকার পর তাঁর অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। রায়ে নজরুলসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী মানবতা বিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
উল্লেখ্য, এ মামলার মোট আসামি ছিলেন সাতজন, তাঁদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের আগে আসামি মোজাহার আলী শেখ মারা যায়। পরে বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।
নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে এসপি আসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতা বিরোধিতায় খুলনার বটিয়াঘাটায় পলাতক নজরুল ইসলাম এবং অপর পাঁচজন বটিয়াঘাটার মাছালিয়া গ্রামের শান্তি লতা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিনোদ মণ্ডলকে আটক করে। পরে তাকে অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর বটিয়াঘাটার পূর্বহালিয়া গ্রামের চাপরাশী বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র হরিদাস মজুমদারকে গুলি করে হত্যা করে। ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে বটিয়াঘাটার সুখদাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র চারজনকে হত্যা এবং চার থেকে ছয়টি বাড়ির মালামাল লুট করে। এর পর অগ্নিসংযোগ ও ২৯ নভেম্বরে আসামিরা বটিয়াঘাটার বারো আড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতিষ মণ্ডল এবং আব্দুল আজিজকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে বলে জানা গেছে।