আট মাসের ব্যবধানে আবারও আগুনে পুড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ। শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগে। এতে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাতে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কন্ট্রোল রুমে খবর আসে যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় একটি কণটেইনার ও তার পাশের স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
তিনি বলেন, খবর পাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
মাহমুদুল হাসান জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর অগ্নিনির্বাপণ দলও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডে কী ধরনের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল সংরক্ষণের স্থান। এখানে বিভিন্ন ধরনের আমদানি ও কুরিয়ার পণ্য রাখা ছিল।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে বলতে হবে। আমরা মাত্রই আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের কাজ শেষ করেছি। কারণ নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে এবং আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৭ ঘণ্টা সময় লাগে।