সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং তাঁর স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পৃথকভাবে এই নির্দেশ দেন আদালত।
দুদকের উপপরিচালক রাশেদুল ইসলাম দুজনের আয়কর নথি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেন।
রুবিনা আক্তারের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জন করে দখলে রাখেন তিনি।
দুদক আরও জানায়, এমপি রুবিনার নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে দুদক গত বছরের ১৪ মে রুবিনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করে।
অন্যদিকে মোশাররফ হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, রুবিনা ও মোশাররফ একে অপরের সহায়তায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে দখলে রেখেছেন। মোশাররফের নিজ নামে এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
উভয় আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সঠিক তদন্তের জন্য তাঁদের আয়কর নথি জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।